নেপচুন
পৃথিবীর দিকে ধেয়ে আসছে সৌর তুফান।
সেফটিপিন আবিস্কারের অজানা কাহিনী
সেফটিপিন আবিস্কারের অজানা কাহিনী
##########################
সেফটিপিন শব্দটির সাথে কমবেশি সবাই আমরা পরিচিত। জিনিসটি কি কাজে লাগে তা হয়তো না বললেও চলবে।
বস্তুটি ছোট কিন্তু খুবই প্রয়োজনীয়। বিশেষত নারীদের ফ্যাশনের ক্ষেত্রে তো অপরিহার্য। জামার সঙ্গে উড়ুক্কু ওড়না কিংবা ব্লাউজের সঙ্গে শাড়ির আঁচল আটকে রাখতে সেফটিপিনের ব্যবহার বহু পুরোনো।
হাজার বছর আগে থেকেই মানুষ এই সেফটিপিন ব্যবহার করে আসছে তবে ভিন্ন নামে। বহু বছর পূর্বে এই টাইপ জিনিসগুলোর নাম ছিল Fibulae (ল্যাটিন শব্দ) বা ব্রোচ।
সেই প্রাচীন রোমান, গ্রীক সভ্যতার সময়ের সেফটিপিন জাতীয় Fibulae বা ব্রোচ এর সন্ধান পাওয়া গেছে যেগুলো তারা ব্যবহার করতো কাপড় কিংবা কোন কিছু আটকাতে।
ধীরে ধীরে এরও বিবর্তন দেখা যায়।
১৭৯৬ সালে ওয়াল্টার হান্ট নিউইয়র্কের কোন এক শহরে জন্মগ্রহণ করেন। টুকটাক পড়াশোনা শেষে তিনি কৃষিকাজ শুরু করেন। এরই মধ্যে তিনি অদূরেই অবস্থিত টেক্সটাইল মিলের যন্ত্রাংশের উন্নতিতে কাজ করেন। এরপর আরও বেশ কিছু যন্ত্রপাতি উদ্ভাবন করেন কিংবা ব্যবহারিক উন্নতি ঘটান। কিন্তু উনার ব্যবসায়িক জ্ঞান হয় কম ছিল নয়তবা উনি টাকা পয়সা নিয়ে খুব একটা ভাবতেন না। উদ্ভাবিত যন্ত্রপাতি ধার শোধ করতে জলের দরে ছেড়ে দিতেন।
১৮৪৯ সালের কথা। এক ব্যক্তির থেকে জনাব হান্ট ১৫ ডলার ধার করেছিলেন। তিনি কিছুতেই শোধ দিতে পারছিলেন না, এদিকে পাওনাদার মাঝে মধ্যেই বাড়িতে হানা দেয়। হঠাৎ মাথায় একটা বুদ্ধি খেলে গেল। একটা তার নিয়ে ঘণ্টা তিনেকের চেষ্টায় এক মাথাতে আঁকড়ার মতো বানালেন, এরপর মাঝে একটা প্যাঁচ দিয়ে সূচালো মাথাকে ঐ আঁকড়াতে আটকে রাখার ব্যবস্থা করে দিলেন।
ব্যস হয়ে গেল আধুনিক সেফটিপিন এর ডিজাইন। এরপর হান্ট অন্য এক বন্ধুর পরামর্শে নিজের নামে পেটেন্ট করিয়ে তার সত্ত্ব সেই সময়ের ৪০০ ডলারে বিক্রি করে দিলেন এবং ওই অর্থদিয়ে তার দেনা শোধ করলেন।
সেখানে থেকে ডিজাইন চলে গেল 'ডব্লিউ. আর. এন্ড কোম্পানি'র কাছে। আর এই কোম্পানি ব্যাপক ব্যবসা করলেন হান্টের তৈরিকৃত ডিজাইনটি নিয়ে। যদিও মাঝে ১৮৭০ সালের দিকে হান্টের ডিজাইনে কিঞ্চিৎ পরিবর্তন আনা হয়। মাথার দিকের আঁকড়ার জায়গাতে একটি নিরাপত্তা বেষ্টনী যোগ করে দেয়া হয়। যার কারনে জিনিসটির নাম হয়ে যায় সেফটিপিন।
এভাবেই আমাদের হাতে হাতে চলে এলো আধুনিক সেফটিপিন যা আমরা কাপড় বা সুবিধাজনক কিছু আটকাতে ব্যবহার করে থাকি।
এই সেফটিপিনের সাথে আমাদের শৈশবের অনেক নস্টালজিক ঘটনা জড়িত। মা - দিদিমাদের হাতের শাঁখায় এরকম দু চারটে সেফটিপিন সব সময় আটকানো থাকতো। খেলতে খেলতে জামার বোতাম ছিঁড়লে , কত বার দৌড়ে গেছি কাঁদতে কাঁদতে মায়ের কাছে। মা অমনি হাতের শাঁখায় আটকানো সেফটিপিন খুলে জামার বোতামের জায়গায় আটকে দিত।এমনি কত শত স্মৃতি জড়িয়ে আছে ছোট একটি সেফটিপিনের সাথে ,
যা ভাবলে আজও আমরা আবেগ প্রবন হয়ে যাই।।
তথ্যসুত্র: ইন্টারনেট হতে সংগৃহীত।
কুমোরে পোকা
আকাশভরা সূর্য-তারা
আকাশভরা সূর্য-তারা
+++++++++++±++++±++±++±±+++++
আকাশভরা সূর্য-তারা, বিশ্বভরা প্রাণ,
তাহারি মাঝখানে আমি পেয়েছি মোর স্থান,
বিস্ময়ে তাই জাগে আমার গান॥
--রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর।
আদিম মানুষেরা রাতের অন্ধকারে অনন্ত নক্ষত্র রাশির দিকে তাকিয়ে বিস্ময়ে হতবাক হতো।
সেই একই বিস্ময় নিয়ে এখনো বিজ্ঞানীরা মহাকাশের দিকে তাকান। প্রশ্ন করেন নিজেদেরকে । অনন্ত বিস্তৃত মহা বিশ্বের রহস্যের কিনারা এখনো করা সম্ভব হয়নি।
আমাদের সূর্য যে ছায়াপথে সেখানে নক্ষত্র আছে প্রায় ২৫–৪০ হাজার কোটি। আর হাবল টেলিস্কোপ দিয়ে যে আন্দাজ পাওয়া যাচ্ছে, তার থেকে বিজ্ঞানীরা বলছেন দৃশ্যমান মহাবিশ্বে এ রকম ছায়াপথ বা গ্যালাক্সির সংখ্যা হতে পারে ১০০ থেকে ২০০ লাখ কোটি।
কিন্তু এগুলো তো কেবল কিছু সংখ্যা। আসলে এই মহাবিশ্ব কত বড়?
আলো হচ্ছে সবচেয়ে দ্রুতগতির। এই আলো এত দ্রুত চলে যে আলোর গতিতে চলতে পারলে এক সেকেন্ডে পৃথিবীকে সাড়ে সাতবার ঘুরে আসা যাবে। আর এই আলোর গতিতে আমাদের ছায়াপথ আকাশগঙ্গা পার হতে লাগবে দেড় লাখ বছর। এখন পর্যন্ত পাওয়া হিসাবে আলোর গতিতে গেলে পুরো মহাবিশ্ব পার হতে লাগবে ৯৩০০ কোটি বছর!
এই বিশ্বব্রহ্মাণ্ডে মানুষ এখন পর্যন্ত আর কোনো প্রাণের অস্তিত্ব খুঁজে পায়নি। তাহলে কী এই মহা বিশ্ব কেবলই প্রাণহীন অপচয়?
প্রায় ১৪০০ কোটি বছর আগে এই মহাবিশ্বের জন্ম হয় বিগ ব্যাং, বাংলায় যাকে বলা যায় মহাবিস্ফোরণ এর মাধ্যমে।
২০১৩ সালে কেপলার স্পেস মিশনের প্রাথমিক তথ্য বিশ্লেষণ করে চমকে ওঠেন বিজ্ঞানীরা। তাঁরা দেখলেন, কেবল আমদের ছায়াপথেই সূর্যের মতো নক্ষত্রের বাসযোগ্য এলাকাতে গ্রহের সংখ্যা প্রায় ৪ হাজার কোটি। আর আমাদের ছায়াপথে কেবল পৃথিবীর মতো উষ্ণ আরামদায়ক গ্রহের সংখ্যা হতে পারে ১ হাজার কোটি! এগুলোতে জল থাকতেও পারে, যা প্রাণের পূর্বশর্ত। সূর্যের মতো নক্ষত্রগুলোর প্রতি চারটির একটিতে পৃথিবীর মতো গ্রহ থাকতে পারে।
আজ রাতে যদি আপনি আকাশের দিকে তাকান, তাহলে ভাববেন যে তারাগুলো দেখছেন এদের ২০ থেকে ৫০ শতাংশ তারার পৃথিবীর মতো গ্রহ আছে। সেই গ্রহগুলোর কোনো একটাতে হয়তো আপনার মতো কোনো বুদ্ধিমান প্রাণী আকাশের দিকে তাকিয়ে আপনার মতোই ভাবছেন—আর কোথাও কি প্রাণ আছে?
ডুমুর ফুল
পরিবেশ ও আমরা।
পরিবেশ ও আমরা।।
👭👭👬👬👫👫👬👬
কয়েক দিন আগেই চলে গেলো বিশ্ব পরিবেশ দিবস,
এই বছর বিশ্ব পরিবেশ দিবসের থিম ছিল 'বাস্তুতন্ত্রের পুনরুদ্ধার করা' । বলতে গেলে এটা সত্যি যে আমাদের পরিবেশ আজ হাঁফিয়ে উঠেছে।চারিদিকে একটু বিশুদ্ধ অক্সিজেনের জন্য হাহাকার।
দ্রুত নগরায়নের ফলে বড় বড় গাছ চোখের সামনে কীভাবে কাটা পড়ছে চারিদিকে।
কাল ছাদে উঠেছিলাম, দেখলাম কার্নিশে দুটি বট গাছ জন্মেছে,মনে পড়ে গেল এর জন্ম এর ইতিহাস,যেটা খুবই অদ্ভুত এবং বৈচিত্রপূর্ণ।
বট ,অশ্বত্থ ইত্যাদি গাছ সচারাচর আমরা কিনে লাগাই না, কিন্তু তবুও কী করে এদের বংশ বিস্তার হয় প্রাকৃতিক নিয়মে তা আমরা কম বেশি সবাই জানি।
বট,অশ্বত্থ এই ধরনের গাছের ফল পাখিরা খেলে পাখির পাকস্থলীতে কয়েক ঘন্টা থাকার পর( নির্দিষ্ট তাপমাত্রায় ও উৎসেচকের উপস্থিতিতে ) ওই বীজ অঙ্কুরোদগমের উপযোগী হয়। পরে মলের সাথে ওই জারমিনেটেড বীজ বাইরে আসলে তা থেকে চারা বেরোয়। বাইরের স্বাভাবিক পরিবেশে কোন ভাবেই এটা হয় না।
তাই পাখি ফল না খেলে এই ধরনের গাছের চারা হওয়া সম্ভব নয়। প্রসঙ্গত এটাও জানা দরকার যে ওই গাছের ফল খায়,টিয়া জাতীয় এমন পাখি যদি পৃথিবী থেকে বিলুপ্ত হয়,তবে বট,অশত্থ গাছ ও পৃথিবী থেকে বিলুপ্ত হয়ে যাবে।এ ভাবেই আফ্রিকার ডোডো পাখি বিলুপ্ত হয়ে যাওয়ায় ওখানকার একশ্রেণীর গাছও একই নিয়মে বিলুপ্ত হয়ে গেছে।
বিভিন্ন প্রজাতির প্রাণী বিলুপ্ত হওয়ার খবর নিয়মিতই আসছে। কিন্তু অনেক গাছ ও বিলুপ্ত হয়ে যাচ্ছে পরিবেশ থেকে সে খবর আমরা কজন রাখি?
সম্প্রতি পরিচালিত এক সমন্বিত গবেষণায় বলা হচ্ছে, গত আড়াই শ বছরের পৃথিবী থেকে হারিয়ে গেছে প্রায় ৬০০ প্রজাতির গাছ। এ সংখ্যা একই সময়ে বিলুপ্ত পাখি, স্তন্যপায়ী প্রাণী ও সরীসৃপের মিলিত সংখ্যার দ্বিগুণ।
এমনিতে ৬০০ টি উদ্ভিদের বিলুপ্তি হওয়াটাকে একটি সংখ্যা মনে হতে পারে। কিন্তু আদতে এর সঙ্গে পুরো পৃথিবীর অন্য প্রাণগুলোও জড়িয়ে আছে বাস্তুতন্ত্রের কারণেই। কারণ এখনো এই গাছই অক্সিজেন ও খাদ্যের জোগানদাতা। ফলে উদ্ভিদের বিলুপ্তি অন্য প্রাণীর বিলুপ্তি ত্বরান্বিত হওয়ার কারণ হিসেবে দেখা দিচ্ছে।
উদ্ভিদের বিলুপ্তি সব প্রজাতির জন্য একটি বড় দুঃসংবাদ। কোটি কোটি প্রজাতি এই উদ্ভিদের ওপর নির্ভরশীল। এর মধ্যে মানুষও রয়েছে।
তাই সকলের কাছে অনুরোধ জৈব বৈচিত্র্য রক্ষায় উদ্যোগী হোন। কারন ছোট ছোট কীট পতঙ্গের উপরেও অনেক বড় জীব প্রজাতি নির্ভরশীল আমরা হয়তো সেটা জানিই না। পরিবেশের বাস্তুতন্র বিঘ্নিত হলে একদিন মানব প্রজাতিও বিলুপ্ত হয়ে যাবে।আসুন সবাই পরিবেশ সম্পর্কে সচেতন হই পরিবেশের ভারসাম্য বজায় রাখার চেষ্টা করি আমারা। ধন্যবাদ।।
পালস অক্সিমিটার কীভাবে কাজ করে?
আজকের এই বিশেষ বিজ্ঞান বিষয়ক আলোচনায় আমরা জানব পালস অক্সিমিটার কীভাবে কাজ করে সেই সন্বন্ধে।
বর্তমানে আমাদের জীবনের এক নতুন সদস্য হল অক্সিমিটার । হাতের আঙ্গুল দেওয়ার সাথে সাথেই জানিয়ে দিচ্ছে আমাদের শরীরে অক্সিজেনের মাত্রা। কোন রক্তপাত নেই , কোন ব্যাথাও নেই । চুপচাপ আলো জ্বালিয়ে জানান দিচ্ছে আমাদের শরীরে অক্সিজেনের স্যাচুরেশন লেবেল।
পালস অক্সিমিটার, হৃৎস্পন্দন ও শরীরে অক্সিজেনের মাত্রা মাপার যন্ত্র। সহজে বহনযোগ্য ছোট যন্ত্রটি কতই না কাজের। আঙুলের মাথায় লাগিয়ে জানা যায় রক্তে অক্সিজেনের পরিমাণ। ব্যবহার করতেও নিতে হয় না বিশেষ প্রশিক্ষণ। অক্ষরজ্ঞান থাকলে সহজেই ব্যবহার করতে পারেন এই পালস অক্সিমিটার।
কিভাবে কাজ করে এই যন্ত্রটি আসুন জেনে নিই।
অন্ধকারে রাতের বেলা আমরা কিছুই দেখতে পাইনা। কিন্তু যাদের নাইট ভিশন চশমা আছে তারা একটা কিছু অবয়ব দেখতে পায়, লাল নীল সবুজ রঙের। কারন হল আমাদের শরীরের তাপমাত্রা। প্রতিটি মানুষের শরীরের উষ্ণতার ওপর নির্ভর করে একটা ইলেক্ট্রোম্যাগনেটিক র্যাডিয়েশন বেরোয়। ঠিক যেমন লোহাকে গরম করলে লাল হয়, তারমানে এই নয় যে লাল হবার আগে অব্দি কিছু বেরোচ্ছিল না। লাল হবার আগে অব্দি যে আলো বেরোয় সেটা আমাদের চোখ ধরতে পারে না। সেটাকে বলে ইনফ্রারেড লাইট। এই ইনফ্রারেড হল এমন আলো যার তরঙ্গদৈর্ঘ্য বা ওয়েভলেনথ লাল আলোর থেকে বেশী। এই একই পদ্ধতিতে কাজ করে থার্মাল গান। দূর থেকে শরীরের তাপমাত্রা বলে দেয়।
অর্থাৎ খুব সোজা হিসেবে বললে দাঁড়ায়, আলোর রঙ কি হবে সেটা নির্ধারিত হয় তরঙ্গদৈর্ঘ্য দিয়ে।
একে ন্যানোমিটার এককে লেখা হয়। এক ন্যানোমিটার মানে এক মিটারের দশ কোটি ভাগের এক ভাগ। আমাদের চোখ মাত্র ৪০০-৭০০ ন্যানোমিটার আলো ধরতে পারে। তার বাইরে যেকোনো আলো আমরা চোখে দেখতে পাইনা। থার্মাল গানে যে ছবি দেখায়, সেটা ৭০০ এর ওপরের তরঙ্গদৈর্ঘ্যের। তাই ওটা কেবল ওই যন্ত্র দিয়েই দেখা সম্ভব। খালই চোখে নয়।
বেগুনী-নীল-আকাশী....বে-নী-আ-স-হ-ক-লা... মনে আছে? এর বেগুনী আলোর ওয়েভলেনথ হল ৪০০ ন্যানোমিটার মত। আর লাল এর রেঞ্জ টা ৭০০র দিকে। এই ৪০০ এর নীচের গুলোকে বলে আল্ট্রাভায়োলেট বা অতিবেগুনী আর ৭০০ এর ওপরের গুলোকে বলে ইনফ্রারেড।
তাহলে বোঝা গেল ওয়েভলেনথ ব্যাপারটার সাথে কোনো না কোনওভাবে রঙ ব্যাপারটা জড়িত।
রক্তে, আমরা জানি অক্সিজেন বয়ে নিয়ে যায় হিমোগ্লোবিন কণা। হিমোগ্লোবিন যদি গাড়ি হয়, অক্সিজেন হল তার প্যাসেঞ্জার। গোটা শরীরে শিরা আর ধমনীর মধ্য দিয়ে চলাচল করে। এবার রক্তে অক্সিজেন কমে যাওয়া মানে হল হিমোগ্লোবিন গাড়ী চলছে রুটে, কিন্তু প্যাসেঞ্জার নেই। এটা কিভাবে জানা যায়? উপায়টা খুব সহজ।
হ্যাঁ, এখানেই আসে ইনফ্রারেড আলোর ব্যাপার। বিজ্ঞানীরা দেখেছেন হিমোগ্লোবিন এ যদি অক্সিজেন থাকে তাহলে সেটা ৯৫০ ন্যানোমিটার তরঙ্গদৈর্ঘ্যের আলো বেশী শোষণ করে। আর যদি হিমোগ্লোবিনে অক্সিজেন না থাকে তাহলে সেটা ৬৫০ ন্যানোমিটার তরঙ্গদৈর্ঘ্যের আলো বেশী শোষণ করে। আচ্ছা আর একটা ব্যাপার, অক্সিজেন থাকলে ৬৫০ তরঙ্গদৈর্ঘ্যের আলো আবার কম শোষণ হয় আর না থাকলে ৯৫০ এর টা কম হয়।
যদি আমি দেখি, আমার রক্তে ৯৫০ বেশী শোষণ হচ্ছে ৬৫০ এর থেকে তাহলে আমার অক্সিজেন ভালো আছে। কতটা ভালো? সেটাই হিসেব করে বলে দেয় অক্সিমিটার।
এতে সাধারণত দুটো LED থাকে, একটা ৬৫০ ন্যানোমিটার আর একটা ৯৫০ ন্যানোমিটার তরঙ্গদৈর্ঘ্যের। অন্যদিকে, একটা ডিটেকটার থাকে যেটা দেখে কোন তরঙ্গদৈর্ঘ্যের আলোর মাত্রা কতটা কমল। আর এই দুটোর মাঝে কি থাকে?
আপনার আঙুল এর ডগা। যেখানে রক্তের পরিমাণ বেশী।
এছাড়া এক বা একাধিক চিপ থাকে এই ডেটা হিসেব করে আপনাকে স্ক্রিনে কত পার্সেন্ট হল সেটা দেখানোর জন্য।
এই প্রসঙ্গে একটু সযোজন করি ,অক্সিমিটার নকল না আসল সেটা চেনার সবচাইতে ভালো উপায় হল আঙ্গুল ঢুকিয়ে রিডিং নেবার পর আঙুলে শক্ত করে গার্ডার বেঁধে আবার চেক করুন। অক্সিজেন আঙুলে সাপ্লাই না থাকার জন্য কোন রিডিং আসবে না। কিন্তু তবুও যদি রিডিং দেখায় তাহলে বুঝতে হবে যন্ত্রটি নকল
যেহেতু এটি আলোর শোষণ ও সঞ্চারের ভিত্তিতে অক্সিজেনের পরিমাণ নির্ধারণ করে । তাই হাতে নেইলপলিশ পড়া থাকলে , নেইলপলিশের মিথিলিন ব্লু এই কাজকে ব্যহত করতে পারে। ফলে পরিমাপের সময় ত্রুটি হতে পারে। তাই নেইলপলিশের ব্যবহার না করাই শ্রেয়।
অক্সিমিটারের লেবেল দেখে কীভাবে বুঝব অক্সিজেনের মাত্রা ?
যদি এর লেবেল দেখায় ১০০ । তার মানে বুঝতে হবে এর ১০০ টা হিমোগ্লোবিনের মধ্যে ১০০ টাই অক্সিজেনযুক্ত ।
তবে সাধারণত এই মান ৯৮-৯৯ -এর মধ্যেই ঘোরাফেরা করতে দেখা যায়। ৯৪- এর নীচে যদি এর মান নেমে যায় তবে বিশেষ চিকিৎসার প্রয়োজন হয়।
পালস অক্সিমিটার লাগানোর আগে মিনিট পাঁচেক রিল্যাক্স অবস্থায় বিশ্রাম নিন।
হৃদপিন্ড এর লেভেলে বুকের ওপর হাত পেতে দিন।
যন্ত্রটি অন করুন/ চালু করুন বোতাম টিপে। দেখুন যন্ত্রের স্ক্রিনে ডিজিট বা সংখ্যাগুলি ভেসে উঠলো কিনা। যন্ত্রটি চালু করার পরে তার মধ্যের ইন্টারনাল ক্যালিব্রেশন সিস্টেমটি কাজ করতে শুরু করে।
হাতের মধ্যম আঙুলটি সঠিকভাবে যন্ত্রে ঢুকিয়ে দিন প্রস্তুতকারক সংস্থার দেওয়া ছবি অনুযায়ী।
যন্ত্রটিকে সময় দিন যাতে সেটি পালস ও অক্সিজেন স্যাচুরেশন মাপতে পারে।
হাত, আঙ্গুল ও যন্ত্রটি কমবেশি এক মিনিট নাড়াচাড়া করবেন না। কি দেখলেন? রিডিং 99? আপনি একেবারে ঠিক আছেন, চিন্তার কারণ নেই। তাহলে আর কি?
সবাই সুস্থ্য থাকুন , পারলে এই যন্ত্রটি কিনে বাড়িতে রাখুন। আজ তবে এ পর্যন্তই থাক। লেখা হবে নতুন কোনও বিষয়ে আগামী সপ্তাহে। ধন্যবাদ।।
সোনার পোকা - কীড়া জড়ি
প্রকৃতির বিস্ময় - সি স্লাগ ( অর্ধেক উদ্ভিদ অর্ধেক প্রাণী)
জীবনানন্দ দাশের 'রূপসী বাংলা' কবিতায় পড়েছিলাম - "তারি নিচে শুয়ে থাকি যেন আমি অর্ধনারীশ্বর"। অর্ধনারীশ্বর এর অস্তিত্ব বাস্তবে না থাকলেও অর্ধেক প্রাণী অর্ধেক উদ্ভিদ রুপী সি স্লাগ এর খোঁজ কিন্তু বিজ্ঞানীরা পেয়েছেন। যুক্তরাষ্ট্রের পূর্বাঞ্চলীয় উপকূলের গভীর সমুদ্রে এই বিস্ময়কর জীবের সন্ধান পাওয়া গেছে। যারা কিনা মাসের-পর-মাস খাওয়া-দাওয়া না করে ও দিব্যি বেঁচে থাকে।
মাঝে মাঝে ভাবি এরকম সক্ষমতা যদি আমাদেরও থাকতো তবে তো খাটাখাটনি ছাড়াও দিব্যি শুয়ে-বসে জীবনটা কাটানো যেত। বিশেষ করে আমাদের মত অলস জীবদের পক্ষে মঙ্গলজনক হত। খাটাখাটনি তো দূরের কথা সামান্য লেখালেখিতেও আমার এলার্জি। তবে আশা রাখছি প্রতি সপ্তাহে অন্তত একটি করে বিজ্ঞান বিষয়ক লেখা আপনাদের জন্য উপস্থাপন করতে পারব।
ফিরে আসি মূল আলোচনায়। সি স্লাগ হলো শামুকজাতীয় একপ্রকার খোলস বিহীন প্রাণী, যাকে কিনা সৌরচালিত প্রাণী বললেও ভুল হয় না। এটির বৈজ্ঞানিক নাম এলিসিয়া ক্লোরোটিকা।
আমরা যখন প্রাণী ও উদ্ভিদ সম্পর্কে চিন্তা করি তখন তাদের দুটি পৃথক গোষ্ঠীতে বিভক্ত করতে যে বিষয়টিকে গুরুত্ব দিই, সেটি হল সূর্যের আলোর সাহায্যে যে শ্রেণী নিজের খাদ্য নিজেই তৈরি করে তারা উদ্ভিদ আর যারা খাদ্যের ব্যাপারে উদ্ভিদের উপর নির্ভরশীল তারা হল প্রাণী। কিন্তু এই ধারণাটিকে গুলিয়ে দিয়েছ সি স্লাগ এর আবিষ্কার। প্রায় 2 ইঞ্চির মতো লম্বা এই প্রাণীটি কখনো কখনো মুখ দিয়ে খায় আর বাকি সময় গাছের পাতার মতো নিজের পিঠ কে, সূর্যের আলোর দিকে মেলে ধরে এবং সালোকসংশ্লেষ প্রক্রিয়ায় নিজের খাদ্য নিজে তৈরি করে নেয়। গবেষণায় এক চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে সেটা হলো তারা কিন্তু তাদের দেহে সালোকসংশ্লেষের জন্য প্রয়োজনীয় ক্লোরোফিল একজাতীয় সবুজ সামুদ্রিক শ্যাওলা থেকে হাইজ্যাক করে। ওই জাতীয় শ্যাওলার ক্রোমোজোম 52 টি এবং সবুজ সি স্লাগ এর দেহের ক্রোমোজোম ও 52 টি।
সাম্প্রতিককালের যে গবেষণাটি হয়েছে তা জেনে আপনারা আরও অবাক হবেন পৃথিবীতে কেবল মাত্র মানুষই একমাত্র বুদ্ধিমান প্রাণী নয় । সি স্লাগ এর বুদ্ধিমত্তা মানুষকেও লজ্জায় ফেলবে। জাপানি গবেষক Sayaka Mitoh তার গবেষণাগারে একদিন আকস্মিকভাবে লক্ষ্য করলেন , একটি সি স্লাগ এর দেহ তার মাথা থেকে আলাদা হয়ে গিয়ে পড়ে আছে। দেহটিতে প্রাণ না থাকলেও মাথা টাই শুধুমাত্র বেঁচে আছে। এইভাবে মাথাটা কতদিন বাঁচতে পারে তা পর্যবেক্ষণ করতে গিয়ে Sayaka Mitoh এর চক্ষু ছানাবড়া। 22 দিন পর তিনি দেখলেন মাথাটাই শুধু বেঁচে রয়েছে তাই নয় সঙ্গে তার শরীরটাকে পুরো তৈরি করে ফেলেছে (হোল বডি জেনারেশন)। টিকটিকির লেজ খসানোর ঘটনাটি ও তার কারণ সম্পর্কে সবারই জানা আছে , তবে সি স্লাগ এর এই অদ্ভুত আচরণের কারণ সম্পর্কে জানা গেছে তাদের দেহে যদি প্যারাসাইটিক ইনফেকশন হয় তবে সেই ইনফেকশন থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্যই সি স্লাগরা পুরানো দেহ ত্যাগ করে আবার নতুন দেহ গড়ে তোলে । এই সব কীর্তিকলাপ- যেমন শ্যাওলা থেকে ক্লোরোফিল চুরি করে তাদের দেহে প্রতিস্থাপন ও হোল বডি জেনারেশন করার পদ্ধতি ইত্যাদি কেমন করে হয় তা এখনও গবেষণার স্তরে আছে। ভবিষ্যতে হয়তো এ সম্পর্কে আরও তথ্য আমাদের সামনে আসবে ।
আজ এত টুকুই থাক আলোচনা, পরবর্তীতে এ রকম মজাদার বিজ্ঞান বিষয়ক লেখার ইচ্ছা প্রকাশ করে আজ শেষ করলাম।
© রবীন্দ্রনাথ পাঠক।
ব্রণের কারণ চিকিৎসা ও কিছু পরামর্শ
ত্বকের উপর তৈলাক্ত গ্রন্থির মাত্রার উপর ব্রণ হওয়া নির্ভর করে।
এমন সব স্থান হল-মুখ, বুকের উপর অংশ ও পিঠ।
অনেকসময় ব্রণ অনাক্রম্যতা (asymptomatic) প্রদর্শন করে।
**************************************************************************
ঔষধের মধ্যে আছে: বেনজইল পারঅক্সাইড, অ্যান্টিবায়োটিক, রেটিনয়েড, হরমোন চিকিৎসা, স্যালিসাইলিক এসিড, আলফা হাইড্রক্সি এসিড, নিকোটিনামাইড, কেরাটোলাইটিক সাবান ইত্যাদি
বয়ঃসন্ধিকালে ব্রণ বেশি হয়, পাশ্চাত্যে যার পরিমাণ ৮০-৯০%।
গ্রাম্য সমাজে এর মাত্রা কম।
২০১০ সালে সারা বিশ্বব্যাপী ৬৫০ মিলিয়ন মানুষের ৮ম সাধারণ রোগ হিসেবে এটি নির্ণীত হয়েছে।
সময়ের সাথে সাথে অধিকাংশ মানুষের ব্রণ কমে যায় এবং ২৫ বছরের মধ্যে একেবারে নির্মুল না হলেও একদমই কমে যায়।
ফলে, ব্রণ কবে একেবারে শেষ হয়ে যাবে, তা পূর্বানুমান করা যায় না। কিছু কিছু মানুষের ৩০-৪০ বছরের পরেও ব্রণ থাকতে দেখা যায়।
ডিহাইড্রোএপিএন্ডোস্টেরন।
প্রাপ্ত বয়স্ক নারীর ব্রণের পেছনে কারণ হিসেবে গর্ভধারণের মত স্বাভাবিক বিষয় থেকে শুরু করে পলিসিস্টিক ওভারি সিনড্রোম বা কুশিং সিনড্রোম থাকতে পারে।
যদিও শুধুমাত্র P. acnes দ্বারা কলোনী সৃষ্টির পর Staphylococcus aureus কেও দায়ী করা হয়।
তারপরেও, P. acnes এর বিশেষ কিছু জাত দীর্ঘমেয়াদি ব্রণের সমস্যার সাথে সম্পর্কযুক্ত।
P. acnes এর অ্যান্টিবায়োটিক প্রতিরোধ দিন দিন বাড়ছে।
Demodexনামক পরজীবির দ্বারা সংক্রমণের ফলেও ব্রণ হতে পারে।
পাশ্চাত্যে প্রায় ৯০% মানুষের কৈশোরকালে ব্রণ হয়ে প্রাপ্তবয়স পর্যন্ত বিরাজ করে।
বয়ঃসন্ধির পর থেকে শুরু করে ২৫ বছরের মধ্যে ৫৪% নারীর এবং ৪০% পুরুষের ব্রণ হয়।
৮৫% ব্যক্তির জীবনব্যাপী ব্রণ রয়েছে,যেখানে ২০% মানুষের মারাত্মক অবস্থায় বিদ্যমান।
গ্রাম্য সমাজে এর মাত্রা কম।
পাপুয়া নিউ গিনি ও প্যারাগুয়েতে ব্রণ প্রায় হয় না বললেই চলে।
ছেলেদের থেকে মেয়েদের ব্রণ বেশি হয় (মেয়ে = ৯.৮% বনাম ছেলে = ৯.0%)।৪০ বছরের বেশি মানুষের মধ্যে ১% পুরুষ ও ৫% নারীর সমস্যা থেকে যেতে পারে।
সকল বয়সের মানুষই আক্রান্ত হতে পারে।
কৃত্রিম ত্বক - বায়ো ইঞ্জিনিয়ারিং
জৈব প্রযুক্তিবিদ্যার মানে ইংরেজিতে যাকে বলে বায়ো ইঞ্জিনিয়ারিং, জগতে আপনি স্বাগত!এ এক অন্য দুনিয়া তৈরী হচ্ছে,অজস্র মানুষের এতদিনের নানান শরীরভিত্তিক সমস্যা মিটিয়ে দিতে এই বিদ্যা বা এর সংশ্লিষ্ট মানুষরা অসামান্য এক দুনিয়া তৈরী করবে আগামীতে।মানুষ সত্যই হবে অমৃতের পুত্র বা কন্যা।আমি গর্বিত এবং আনন্দিত এই জন্য যে আজকে যে খবর আপনাদের সামনে তুলে ধরবো তার কাজের কান্ডারি একজন প্রবাসী ভারতীয়।আমরা এখনো গবেষণা সংশ্লিষ্ট বিভাগ গুলো অনাদরে ফেলে রেখেছি তাই এই মানুষগুলো কে পৃথিবীর প্রথম বিশ্বের নানান বিশ্ববিদ্যালয়ে কাজ করতে হয়।চিন্তা করবেন না,আগামীতে আমরাও এই পথেই যাবো।যাইহোক বড় বাজে বকে ফেললাম,আসুন মূল বিষয়ে যাই।
চারিদিকে নানান কারণে দুর্ঘটনায় অসংখ্য দুর্ভাগা মানুষের ত্বকের ক্ষতি হয়।শরীরে একটা বাহ্যিক ক্ষতি তো আছেই এর উপরে আছে অশেষ যন্ত্রনা।খালি ভাবুন তো আগুনে পুড়ে যাওয়া মানুষগুলোর কথা!এই পরিস্থিতির পরিবর্তন হচ্ছে,দিন বদলের সেই মহেন্দ্রক্ষণ এসেছে আজ।তৈরী হতে চলেছে এক কৃত্রিম চামড়া যা স্বাভাবিক চামড়ার পরিপূরক হয়ে উঠবে।দশকের পর দশকের অক্লান্ত পরিশ্রমের ফসল এই আবিষ্কার আর এটিকে সফল করেছে সেই এই শতকের এক মহা আবিষ্কার ত্রিমাত্রিক মুদ্রক বা থ্রি ডি প্রিন্টার।অতীব কঠিন একটি কাজ এই কৃত্রিম চামড়া তৈরী করা।কারন এর সাথে যে যোগ করতে হয় কার্যকরী রক্ত সংবাহক নালিকা !
এই গবেষণা বা সফলতা এসেছে রেন্সেলার(Rensselaer)পলিটেকনিক সংস্থা এবং ইয়েল(Yale) বিশ্ববিদ্যালয় যেখানে জীবন্ত মানুষের ত্বকের কোষকে সফলতার সাথে জৈব কালি তে রূপান্তর করতে পেরেছে।এই জৈব কালি দিয়ে আক্ষরিক অর্থে কৃত্রিম চামড়া ছাপানো সম্ভব হয়েছে,হ্যা সঙ্গে নিজস্ব রক্ত জালিকা ব্যবস্থা সমেত!
এই সংযোজন হলো সব থেকে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।এই কাজ সফলতার সাথে করার কান্ডারি পঙ্কজ কারান্ডে ,একজন ভারতীয় বিজ্ঞানী পেশায় Rensselaer পলিটেকনিক সংস্থার রাসায়নিক এবং জৈব প্রকৌশলের অধ্যাপক যিনি এই পুরো গবেষণা কে এগিয়ে নিয়ে গিয়েছেন।তার মতে এই কাজে আসল সোপান ছিল গ্রহীতার শরীরের সাথে এই প্রতিস্থাপিত ত্বকের সংযোগ করানো।মাথায় রাখবেন,বাইরের কোনো জৈব বস্তু আপনি চাইলেও শরীরে প্রবেশ করাতে পারবেন না।শরীরের রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থা ওটাকে নষ্ট করে দিতে পারে বা পুরো শরীরের নানান ক্ষতির কারন হতে পারে।
আজকে কোনো ক্ষতিগ্রস্থ মানুষের জন্য এই ত্বকের সংযোজন হয় দু ভাবে, এক ওই মানুষটির নিজের শরীরের থেকে মানে অন্য জায়গার ত্বক কে নিয়ে ক্ষতিগ্রস্থ জায়গায় লাগানো আর দ্বিতীয় হলো নানান গবাদি পশুর শরীর থেকে পাওয়া বিশেষ একটি প্রোটিন bovine collagen কে দিয়ে কাজ চালানো অথবা বিশেষ শরীরের উপযোগী পলিমার ফোম দিয়ে কাজ চালানো।প্রথমটি যথেষ্ট যন্ত্রণাদায়ক আর নতুন ক্ষতের কারন ও হতে পারে আর দ্বিতীয়টি একটি সাময়িক ব্যবস্থা যা দিয়ে গভীর ক্ষতের পূরণ হয় না বা মানব ত্বকের মতো দেখতেও হয় না।অনেকটাই আমাদের পরিচিত ক্ষতের উপরের ব্যান্ডেজ বা পরিচিত ব্যান্ড এড গোছের একটা আস্তরণ দেয়।এই দুই ক্ষেত্রেই যা হয় না তা হলো মানব শরীরের ত্বকের স্বাস্থ ঠিক রাখতে রক্তের মাধ্যমে যে পুষ্টি আসার দরকার তা তো আসে না।এ ছাড়া আমাদের শরীরের বর্জ্য বস্তু ঘামের মাধ্যমে বেরিয়ে যায় এই ত্বকের উপরের অংশ দিয়েই,তাও হতে পারে না।সব মিলিয়ে আজকের ব্যবস্থা মোটেই একটি সঠিক সমাধান না।
এর সমাধানে ডক্টর কারান্ডের নেতৃত্বে এই দুই বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণার দল মানব নাভির সংশ্লিষ্ট অঞ্চল থেকে বিশেষ এন্ডোথেলিয়াল কোষ সংগ্রহ করেন।এই গুলো কোষ তৈরির সহায়ক বস্তু আর বিশেষ মানব প্যাসেন্টাল কলার সৃষ্টির কোষ সংগ্রহ করেন।এরপরে এটি পরীক্ষাগারের ইদুরের লেজের অংশের চামড়ার উপরে প্রতিস্থাপিত করেন বিশেষ মুদ্রণ ব্যবস্থায়।এই প্রতিস্থাপনের ভিতরের স্তর বা ডার্মিস এ উপরের সেই কোষের অবস্থান রাখা হয়।দ্বিতীয় আরো একটি জৈব কালি যা মানুষের চামড়ার উপরিভাগের ত্বকের কোষ দিয়ে তৈরী হয়।এটি কেরাটিনোসাইটস (keratinocytes) নামের কোষ দিয়ে উপরের ত্বকের অংশ বা এপিডার্মিস সৃষ্টি করে।এই তৈরির পরে গবেষণাগারের বিশেষ কোষ আধার এ এই এন্ডোথেলিয়াল আর প্ল্যাসেন্টাল পেরিসাইটস বস্তু একটি একীভূত হওয়ার মাধ্যমে সূক্ষ্ম রক্ত জালিকার যোগাযোগের বস্তু তৈরী হয়।সোজা ভাষায় একটি সজীব ত্বক তৈরী হয়ে যায় প্রতিস্থাপনের জন্য।এরপরে এই জৈব ত্বক প্রতিস্থাপন হয় ইঁদুরদের শরীরে।অতীব আনন্দের খবর এই যে প্রস্তুত করা সেই রক্তজালিকা সমেত এই ত্বক ইঁদুরগুলোর শরীরের নিজস্ব রক্ত বহনকারী মানে সংযোগকারী জালিকার সাথে মিশে গিয়েছে চার সপ্তাহের মধ্যেই।মানে ওই প্রতিস্থাপিত চামড়ার মধ্যে ইঁদুরগুলোর শরীরের রক্ত পরিবহন চালু হয়ে যায়।কারান্ডে বলেছেন এই প্রতিস্থাপন একদম আমাদের শরীরে যে ভাবে ত্বকের ক্ষতির পরে তা সুস্থ ত্বকের তৈরির পরে যে রকম হয় তাই হয়েছিল।
যাত্রা এখনো শেষ হয় নি :
এই গবেষক দলকে এখন তৈরী করতে হবে প্রস্তুত করা যায় ও রকম জৈব বস্তু দিয়ে এই ত্বকের মূল উপাদান খুঁজে নেওয়া যা মানুষের শরীরের কাছে গ্রহণযোগ্য হবে।কারন এই উপরে বলা ইঁদুরদের উপর প্রতিস্থাপন করার সময়ে তাদের শরীরের নিজস্ব রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কে নিষ্ক্রিয় করে রাখা হয়েছিল তা তো মানুষের জন্য করা বেশ ঝুঁকির হবে।এই ক্ষেত্রে সাহায্য নেওয়ার জন্য ভাবা হচ্ছে জীন সম্পাদনার প্রযুক্তি কে যা দিয়ে আগেই শরীর কে ছিনিয়ে দেওয়া হবে এই বাইরের থেকে প্রতিস্থাপিত ত্বকের বা একটি উপযোগী নির্দেশ জুড়ে দেওয়া যাবে।প্রসঙ্গত বলা যায় ওটা আজ করা সম্ভব কিন্তু !
এছাড়া আরো একটা বিষয় আছে,আমাদের ভৌগোলিক অঞ্চল ভেদে নানান জায়গার মানুষের চামড়ার রং ভিন্ন। একজন এশিয় বিশেষত ভারতীয় কোনো মানুষের চামড়ার ক্ষেত্রে কখনোই একজন ইউরোপীয় মানুষের চামড়ার রং মিলবে না। ডক্টর কারান্ডে এবং তার দল ওটার সমাধান করেছেন,আমাদের শরীরের মানে ত্বকের একটি উপাদান মেলানোসাইটিস এর কম বেশি তে এই রঙের পার্থক্য হয় তাই বেশি মিশিয়ে কালো রঙের ত্বক আর কম দিয়ে ধলা ত্বক তৈরীর কাজটির সমাধান তারা কিন্তু করে ফেলেছেন।
সম্পর্কিত আরো কিছু লেখায় এই কাজের ভূয়সী প্রসংশা দেখছি।অনেকেই এই কাজকে একটি বৈপ্লবিক পদক্ষেপ বলে অবিহিত করেছেন।হয়তো আগামীর দিনগুলো এই পুড়ে যাওয়া বা নানান দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্থ মানুষ গুলো বা কিছু নরপশুর কারণে নিরীহ সব মহিলাদের এসিড নিক্ষেপ করে জীবন দুর্বিসহ করে দেওয়ার নারকীয় কাজের জীবন থেকে মুক্তি পাবে অসংখ্য মানুষ।
এই সফলতার পরে পর্যায় ক্রমে একাধিক পরীক্ষা নিরীক্ষা হয়েছে এর সফলতার উপরে।এই জৈব ত্বক ঘর্ম গ্রন্থি এবং দেহের রঙের নিয়ন্ত্রক অংশর সফলতার হেরফের হলেও তার সফলতা পাওয়া গিয়েছে।আগামীতে হাসপাতাল গুলো নিশ্চিত ভাবে নতুন ব্যবস্থা বা এই প্রতিস্থাপকের জন্য নানান পরিবর্তনের মধ্যে দিয়ে যেতে হবে। দরকার হবে প্রচুর আর্থিক বিনিয়োগ তবে তা খুব একটা বড় সমস্যা হবে না।প্রযুক্তির প্রবেশ আর তার ক্রমাগত উৎপাদন ক্রমশ তার দাম আয়ত্বে নিয়ে আসে।সব মিলিয়ে আমি এটি পুরোপুরি সম্ভব বলেই দেখতে পাচ্ছি।
সেই দিনটার স্বপ্ন দেখি ভীষণ রকম।পাঠক,বিশ্বাস না,নিশ্চিত প্রত্যয় থেকেই বলছি আগামীর দিন গুলো খুব সুন্দর হতে চলেছে।ভরসা রাখুন বিজ্ঞানে।ভরসা রাখুন আগামীর মানুষের ধীশক্তির উপরে।জয়তু বিজ্ঞান! জয়তু মানব প্রজ্ঞা!
আপনি যদি আপনার স্মার্টফোনটি হারিয়ে ফেলেন তবে কী করবেন?
স্মার্টফোন হারিয়ে যাওয়ার পরে আমাদের কী করা উচিত? ব্যবহারকারীর অনেক ব্যক্তিগত তথ্য সেভ করা থাকে মোবাইলে।
আমাদের স্মার্টফোন যেমন পরিচিতি, পাসওয়ার্ড এবং ব্যাঙ্কের বিবরণ ইত্যাদি , এমন পরিস্থিতিতে যদি আপনি কখনও আপনার স্মার্টফোনটি হারিয়ে ফেলেন তবে আপনি কী করবেন?
স্মার্টফোন হারানোর পরে, এটি করুন:
১. স্মার্টফোনটি হারিয়ে যাওয়ার পরে, আপনি অবিলম্বে আপনার মোবাইল অপারেটরের সাথে যোগাযোগ করুন এবং সিমটি ব্লক করে নিন। যাতে কেউ আপনার সিমটির অপব্যবহার করতে না পারে। আপনি যদি আপনার স্মার্টফোনের আইএমইআই নম্বরটি জানেন তবে আপনি হ্যান্ডসেটটি ব্লক করতে পারেন। আইএমইআই নম্বর হ্যান্ডসেটটির অনন্য পরিচয় নম্বর। স্মার্টফোন থেকে * # 06 # ডায়াল করে আইএমইআই নম্বর সনাক্ত করা যায়। ২. আপনি যদি আপনার স্মার্টফোন হারিয়ে ফেলেছেন তবে আপনার পুলিশকে জানানো উচিত। এখানে আপনাকে স্মার্টফোনের আইএমইআই নম্বরও সরবরাহ করতে হবে।
পুলিশকে এফআইআর কপি দিতে হবে। এছাড়াও, হ্যান্ডসেটটি বীমাকরণ করা হলে, অনুলিপিটিও বীমা সংগ্রহের ক্ষেত্রে এই অনুলিপি কার্যকর।
স্মার্টফোন দিয়ে এই সাবধানতা অবলম্বন করুন:
১. স্মার্টফোনটি ই-মেইল পড়ার জন্য, সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাকাউন্টগুলি পরীক্ষা করার জন্য এবং শপিং সহ ব্যাংকিং অ্যাপ্লিকেশন ব্যবহার করার জন্য কলগুলি ছাড়াও অনেকগুলি কাজের জন্য ব্যবহৃত হয়। এমন পরিস্থিতিতে আপনার সর্বদা আপনার পাসওয়ার্ড পরিবর্তন করা উচিত। এছাড়াও, কোনও ব্যাঙ্কিং এবং পাসওয়ার্ডের বিবরণ স্মার্টফোনে সংরক্ষণ করা উচিত নয়।
২. পাসওয়ার্ড লক সর্বদা স্মার্টফোনে রাখতে হবে। স্মার্টফোনের পাসওয়ার্ড এমন হওয়া উচিত যে এটি সহজেই ভাঙতে পারে না। আজকাল স্মার্টফোনে কম্বিনেশন পাসওয়ার্ড বা ফিঙ্গারপ্রিন্টের মতো অনেকগুলি বিকল্প থাকবে। এছাড়াও আপনি স্মার্টফোনে GPS চালু করতে পারেন। আপনি হারিয়ে যাওয়ার পরে এই স্মার্টফোনটি ইন্টারনেটে স্মার্টফোনটি দূর থেকে ব্লক করা যেতে পারে। এছাড়াও ডেটা মুছতে পারে।
৩. স্মার্টফোন হারানোর পরে, ব্যবহারকারীদের সবচেয়ে বেশি ক্ষতি হ'ল পরিচিতি এবং ফটোগুলির। এমন পরিস্থিতিতে আপনার স্মার্টফোনটি সর্বদা অনলাইন স্টোরেজ পরিষেবার সাথে সুসংগত রাখা উচিত।
4000 বছর পুরাতন, তাজা এবং পরিচ্ছন্ন চিত্র
মিশরীয় প্রত্নতত্ত্ব বিভাগ সোমবার সমাধিস্থলের ছবি এবং ভিডিও প্রকাশ করেছে। প্রত্নতাত্ত্বিক বিভাগ বলেছে যে সমাধির অভ্যন্তরের চিত্রগুলি রাজকীয় রঙ হিসাবে ব্যবহৃত হয়েছে।
এই কারণেই কিউউ অবশ্যই রাজবংশের সাথে নিবিড়ভাবে জড়িত থাকতে হবে। পঞ্চম রাজবংশের সময় প্রাচীন মিশরের শাসক ফেরাউন জেডকারে আইসেসির সাথে তাঁর সম্পর্ক এবং তার প্রভাব নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে। খুই থেকে খুব বেশি দূরে ইসসাইয়ের সমাধি নেই। এই সম্ভাবনা উত্থাপন করে যে দুজনের মধ্যে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক থাকতে পারে।
খুবির মমিও কবর থেকে উদ্ধার করা হয়েছে এবং তার দেহাবশেষের দেহাবশেষও উদ্ধার করা হয়েছে। গবেষকরা আশা করছেন কিউয়ের কবরের অনুসন্ধানগুলি ফেরাউন ইসেসির প্রমাণ দেবে।
সমাধিটি ইংরেজী বর্ণ 'এল' এর মতো আকারযুক্ত। এটিতে একটি ছোট করিডোরও রয়েছে যা অভ্যন্তরের ঘরে নিয়ে যায়। ঘরে রাজকীয় রঙের সুন্দর চিত্র রয়েছে। ছবিতে খুইকে কুচকাওয়াজের সামনে বসে চিত্রিত করা হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা উল্লেখ করেছেন যে সমাধিটি সমাধির অভিনবত্বের প্রতিচ্ছবি ছিল।
তবে মিশর সরকার তার নতুন অনুসন্ধানের জন্য সুপরিচিত। উদ্দেশ্য পর্যটন খাতকে শক্তিশালী করা।
4,000 বছরেরও বেশি পুরানো, মিশরে নতুন আবিষ্কৃত সমাধিটি দেখতে নতুন এর মতো
আপনি কি মাস্ক দিয়ে বায়ু দূষণকে পরাজিত করতে পারেন?
তৃতীয় গবেষণায়, সাংহাই থেকে, স্বাস্থ্যকর অংশগ্রহণকারীরাও N95 ফেসমাস্ক ( শি 2017 ) পরা যখন নিম্ন রক্তচাপ ছিল । এই গবেষণাগুলি সুপারিশ করে যে কণা-ফিল্টারিং মাস্ক পরা নাগরিক বায়ু দূষণের জন্য হৃদয় এবং রক্তনালীগুলির উপর স্বল্প-মেয়াদী এক্সপোজার প্রভাব হ্রাস করতে পারে।চীন থেকে আসা তিনটি পরীক্ষামূলক গবেষণার মধ্যে দু'এই, বেইজিংয়ের কেন্দ্রে হাঁটার সময় N95 ফেসমাস্ক পরিধান করার সময়, স্বাস্থ্যকর অধ্যয়ন অংশগ্রহণকারীদের এবং হৃদরোগের সাথে অংশগ্রহণকারীদের উভয়কেই ফেসমাস্ক না পরে রক্তচাপ কম ছিল । হৃদরোগের সাথে অংশগ্রহনকারীদের মধ্যে, N95 ফেসমাস্ক পরার পরে রক্তের প্রবাহ এবং হৃদয়ে অক্সিজেন সরবরাহ আরও ভাল ছিল।
আর লাগবে না সিম কার্ড- চলে আসছে ই-সিম
আর লাগবে না সিম কার্ড- চলে আসছে ই-সিম
সিম শব্দটির আক্ষরিক অর্থ সাবস্ক্রাইবার আইডেন্টিটি মডিউল এবং এটি কেবল একটি সাধারণ মেমরি চিপ যা সেলফোন ব্যবহারকারীদের সম্পর্কে পরিচয় সম্পর্কিত তথ্য ধারণ করে। সিম কার্ডগুলি সাধারণত একটি ইউআইসিসি (ইউনিভার্সাল ইন্টিগ্রেটেড সার্কিট কার্ড), ধাতব পরিচিতিযুক্ত পিভিসি কার্ডগুলিতে একীভূত হয়।
প্রথম স্মার্ট ইউআইসিসি ছিল ক্রেডিট কার্ডের আকার। বছরের পর বছর ধরে তারা আরও ছোট হয়ে আসছে।
সিম কার্ডগুলিতে একটি এসএমএস মেমরি (আধুনিক স্মার্টফোন দ্বারা ব্যবহৃত হয় না) এবং ব্যক্তিগত পরিচিতি থাকে। স্ট্যান্ডার্ড সিম কার্ডগুলিতে মেমরিটি 8 কেবি থেকে 256 কেবি পর্যন্ত রয়েছে, যা 250 এরও বেশি পরিচিতির জন্য পর্যাপ্ত জায়গা space তবে, আজকাল আপনার পরিচিতিগুলি আপনার সিম কার্ডের চেয়ে ক্লাউডে রাখাই অনেক বেশি নিরাপদ।
ইএসআইএম নামের অর্থ এমবেডড সিম, যা কোনও কিছুর সাথে সংহত সিম কার্ড। এটি সত্যিকারের সিম কার্ড নয়, বরং একটি ইন্টিগ্রেটেড চিপ যা সরাসরি কোনও ডিভাইসের মধ্যেই সোন -8 মান অনুসরণ করে যার অর্থ এটি সরানো বা স্যুইচ আউট করা যায় না।
ব্লু টুথ বা নীল দন্তের মহিমা কথা...
আসুন জানি এই ব্লু টুথ কি ভাবে এই সংযোগ তৈরী করে
এর আগে বলে রাখি, এই বস্তুটি গ্রাহকের বারবার যোগাযোগের শ্রম দূর করে অতীব কম বিদ্যুৎ খরচে একটি স্থানীয় মানে স্বল্প দূরত্বের যোগাযোগ ব্যবস্থা তৈরী করে।এটি মূলত দুটি স্তরের একটি ব্যবস্থা।প্রথমটি হলো বাহ্যিক বা বস্তুগত একটি স্তর যার মাধ্যম দুটি জিনিস একটি গ্রাহক আর অপরটি প্রেরক।এই আদানপ্রদানের মাধ্যম যা আগে বলেছি,বেতারের একটি নির্দিষ্ট কম্পাঙ্ক।এর সুবিধে হলো এটি অতীব কম খরচে হয় আর স্বয়ংক্রিয় পদ্ধতিতে হয়।
সস্তার অন্য যা বেতার সংযোগ দেখেন তার একটি হলো অবলোহিত রশ্মির সংযোগ বা ইনফ্রা রেড যোগাযোগ,ঝামেলা হলো এটি আমাদের দৃষ্টিগোচর না হলেও এর যোগাযোগ করার জন্য দুটি যোগাযোগের বস্তুর মধ্যে একটা পারস্পরিক দৃশ্যমান হওয়ার ঝামেলা থাকে।একটু ঝামেলা লাগছে বুঝতে? আরে,আপনার টিভির রিমোটের কথা বলছি!হ্যা,টিভির এবং রিমোটের মধ্যে আলোক সংযোগ না থাকলে আপনি রিমোট টিপলেই কি টিভি কাজ করে? অথচ স্নান ঘরে বসে এই ব্লু টুথ কোনো বস্তুর সাথে আপনি যোগাযোগ করতেই পারেন। তফাৎ ঐখানেই!আরো যা পারেন তা হলো এই ব্লু টুথ দিয়ে একাধিক বস্তুর সংযোগ সাধন করতে যা টিভির রিমোট মানে ওই ইনফ্রারেড সংযোগে পারেন না।
এই ব্লুটুথ যোগাযোগ রাখে একটি নির্দিষ্ট বেতার কম্পাঙ্কে।এটি গোদা হিসেবে ২.৪৫ গিগাহার্টজ বা আরো একটু নির্দিষ্ট ভাবে বললে ২.৪০০ থেকে ২.৪৮৩ গিগাহার্টজ এর মধ্যে এই সংযোগের কাজ চলে।এই কম্পাঙ্ক এক বড় বিষয়,মানে আগেই আন্তর্জাতিক স্তরে নির্ধারিত কোন কম্পাঙ্ক কি কাজে লাগবে তার ভিত্তিতে ওটা স্থির করা।এই যেমন আজকাল ব্যান্ড উইড্থ বিক্রির কথা শোনেন কোনো দূরাভাষের নতুন প্রযুক্তি এলে (ফোর জি /থ্রি জি ইত্যাদি)ওই গুলো বা অন্য সব যন্ত্র কিন্তু বিভাগ অনুযায়ী আলাদা আলাদা কম্পাঙ্কে কাজ করে এবং তা পৃথিবীর সর্বত্র একই ভাবে করে থাকে।আগের ফাইভ জি নিয়ে লেখাতে একটু ছুঁয়ে গিয়েছি।পরবর্তীতে আলাদা করে লেখার ইচ্ছা আছে,আপাতত মূল বিষয়ে ফিরে যাই।
এই ব্লু টুথ প্রযুক্তির নিরিখে আপনি এই সংযোগের সর্বোচ্চ সীমা এক কিলোমিটার মানে ৩২৮১ ফিট পর্যন্ত করতে পারেন।তাত্বিক সীমা যাই হোক,এই ব্লু টুথ অন্য কোনো যন্ত্রের একই ব্লু টুথ এর কোনো সংযোগের থেকে নিজের যোগাযোগ ব্যাহত না করতে অপেক্ষাকৃত কম দূরত্বের যোগাযোগ করে।অতি দুর্বল এক বেতার সংযোগ করা হয় ইচ্ছাকৃত ভাবেই যার ফলে বাজারে যা কিছু এই ধরণের যন্ত্র দেখেন তার যোগাযোগ সীমিত থাকে ২০০ মিটার মানে ৬৫৬ ফিটের দূরত্বে।দুর্বল হয় দূরত্বের কম করতে তবে যেমন উপরে বললাম,আপনার সংযোগের যন্ত্র গুলোর মধ্যে কোনো দেওয়াল বা অন্য বাহ্যিক বাধা এতে কোনো অসুবিধের কারন হয় না।একই ভাবে একাধিক সংযোগের একটি সূত্রে ১০ মিটারের মানে ৩২ ফিট বৃত্তে এই যোগাযোগ রাখার কাজ করতে স্বক্ষম ব্লু টুথ।
এর আরো একটি মজা হলো, ওই উপরের বলা সংযোগের জন্য একটা অসাধারন পদ্ধতি নেওয়া হয়।ব্লুটুথ ওই সংযোগের সময়ে বেতার তরঙ্গের সংযোগ পাল্টে পাল্টে যোগাযোগ রাখতে থাকে।অকল্পনীয় ১৬০০ বার প্রতি সেকেন্ডে এই কম্পাঙ্কের নানান স্তরে নিজেকে পরিবর্তিত করতে থাকে।এই কাজ স্বয়ংক্রিয় মানে নিজে নিজেই হতে থাকে আর এর ফলে একাধিক ব্লু টুথ একই জায়গায় আলাদা আলাদা যোগাযোগ রাখার ক্ষেত্রে পারস্পরিক কোনো বাধার সম্মুখীন হয় না।আর যদিবা কচিৎ কদাচিৎ হয়েও যায় তার স্থায়িত্ব এক অতীব অকল্পনীয় কম ন্যানো সেকেন্ড মানে ভগ্নাংশের সামান্য কিছু হয় এক সেকেন্ডের ফলে আপনি তা বুঝতেও পারবেন না।
এই ব্লুটুথ যোগাযোগে স্বক্ষম যন্ত্র গুলো যখন পারস্পরিক একটা যোগাযোগের সীমার মধ্যে আসে তখনই কিন্তু যোগাযোগ শুরু হয়ে যায় না।যোগাযোগ করতে ইচ্ছুক হলে এর ব্যবহারকারীদের মধ্যে পারস্পরিক সম্মতি নেওয়ার কাজ করে নিতে হয়।সম্মতি দিলেই তবে যোগাযোগ শুরু তাই চাইলেই যোগাযোগ করা যায় না। এরপরে এই দুই বা একাধিক সংযোগকারী কে নিয়ে তৈরী হয় একটি ব্যক্তি কেন্দ্রিক সংযোগ সূত্র বা পার্সোনাল এরিয়া নেটওয়ার্ক বা প্যান।এরপরে একাধিক ব্যবহারকারী নানান সংযোগের মাধ্যমে এই যোগাযোগ শুরু করে।একটা সহজ উদাহরণ হলো বেতার হেডফোন দিয়ে আপনি গান শুনছেন আবার সেই আপনি বেতার মাউস এবং কি বোর্ড দিয়ে কিছু লিখছেন বা খোঁচাচ্ছেন এই রকম একটি একক ব্যক্তির নানান সংযোগের একটি ছোট্ট নেটওয়ার্ক।একই সাথে আপনার মোবাইলের ব্লু টুথ দিয়ে অন্য পরিজনের সাথে ইন্টারনেট ভাগাভাগি করছেন অথচ প্রত্যেকটি কাজ আলাদা আলাদা।
বিজ্ঞানের নানান ক্ষেত্রে এর ব্যবহার অসম্ভব বেশি হয়েছে হালের দিনগুলোতে,শ্রবন প্রতিবন্ধীর জন্য বিশেষ শ্রবন যন্ত্র থেকে শারীরিক পরীক্ষার নানান যন্ত্রে এর ব্যবহার তো আছেই,এর সাথে মহাকাশ প্রযুক্তির নানান যন্ত্র বা অসংখ্য সংযোগের কাজ করছে এই ব্লু টুথ যার উপরে লিখতে গেলে একটা বই হয়ে যাবে বলে ক্ষান্তি দিলাম।
উপরে যেমন বলেছি, আপনি চাইলেই কোনো ব্লু টুথ সংযোগে ঢুকে যেতে পারবেন না।যে কটি এই ধরণের যন্ত্র নির্মাণ হয় তার প্রত্যেকটিতে একটি ধর্ম জুড়ে দেওয়া হয়।না কোনো প্রচলিত ধর্ম না, এটি ওই ব্লু টুথ যোগাযোগের একটা নিয়ম ভাবতে পারেন।এতে একটি নির্দেশাবলী বা সফ্টওয়ার জুড়ে দেওয়া হয় যা বিশ্বাসযোগ্য বিনিময় যন্ত্রের একটি ছাঁকনি বা সতর্কতা আগেই নিয়ে থাকে।অর্থাৎ এই সংযোগে একটা অনুমতির বিষয় থাকে যা ধরে ট্রাস্টেড ডিভাইস বা বিশ্বস্ত যন্ত্রের তালিকা এই যন্ত্র নিজের স্মৃতিতে রাখে সর্বদা। অর্থাৎ পরিচিত যন্ত্রের বাইরে কোনো অন্য কিছু এতে যোগ দিতে পারে না।একই সাথে অনুমতি দেওয়া বা কটি কে সংযোগে নেওয়া হচ্ছে তার একটা নিয়ন্ত্রণ রাখা হয় ব্যবহারকারীর জন্য।
আগের দশক পর্যন্ত অবশ্য একটা ব্লুটুথ মাধ্যম ধরে ঢুকে যাওয়ার দরজা থেকে গিয়েছিল যা ধরে কিছু কুবুদ্ধি সম্পন্ন লোক ভাইরাস ছড়ানোর জন্য ওই ব্লু টুথ ধরে আপনার আগের মোবাইল গুলোতে ঢুকে যেতে পারতো তবে হালে মানে গত দশকেই ওই অনুমতি দেওয়ার বিষয় এসে যাওয়ায় এর অবসান হয়েছে ভাবা যেতে পারে।আপনি একান্ত নিজের সর্বনাশ না চাইলে কেউ ঢুকে গিয়ে মানে ওই ব্লু টুথ দিয়ে এসে আপনার যন্ত্র বিশেষত মোবাইল বা কম্পিউটার ইত্যাদিতে নিজে নিজেই কোনো কিছু সর্বনাশ করতে পারবে না।
তবে কি এই ব্লু টুথ নিশ্ছিদ্র? না, মানুষ নিরাপত্তা বানায় আবার মানুষই এর বলয় ভেঙে ফেলে।এই ব্লুটুথ সংযোগের নানান মাধ্যম বিশেষত চার চাকার গাড়ির নিরাপত্তা বা তার ভিতরের ব্লু টুথ দিয়ে চলা গান বা অন্য যন্ত্রাংশের সংযোগের জন্য প্রস্তুতকারক নির্দিষ্ট সংকেত মানে নিরাপত্তার কিছু নম্বর ইত্যাদি ক্রেতা কে দিয়ে দেয়।অনেক সময় সর্ষে তে ভুত বা বিশেষ হ্যাকার তার নিজস্ব ব্লু টুথ দিয়ে কোনো মিথ্যে বার্তা পাঠিয়ে দিতে পারে ওই গাড়ি বা সংশ্লিষ্ট যন্ত্রের গ্রাহক বস্তুর কাছে। হ্যাকার বা এই বলয় ভাঙ্গার লোকেদের সুবিধে হয় কারন এই গাড়ি গুলো ব্লুটুথ ব্যবস্থার নিরাপত্তা চাবি সাধারনত হয় খুব সহজ সব সংখ্যা আর গাড়ি ধরে আলাদা আলাদা হয় না ফলে ওটা জেনে নেওয়া কোনো বড় বিষয় না।
গণিতে ছোট্ট চিকা'র নতুন উদ্ভাবন -7 দ্বারা বিভাজ্যতার নিয়ম
বিদ্যালয়ের দীর্ঘকালীন ছুটির সময় তিনি একটি assignment দেন। যেখানে ছিল, ভাগ না করে কোন সংখ্যার বিভাজ্যতা যাচাই করা। সেই বইতে 7 দ্বারা বিভাজ্যতার কোন নিয়ম ছিল না কারণ এমনিতে 7 দ্বারা বিভাজ্যতার নিয়ম খুব সহজও নয় এবং মনে রাখার মতনও নয়। আর এখানেই ভাবতে শুরু করে চিকা।
শিক্ষিকা Miss Mary Ellis জানাচ্ছেন 'গত শুক্রবার ক্লাসে চিকা জানায় সে নতুন কিছু বলতে চায় এবং তা সকলের সামনে উপস্থাপিত করে এবং আমি চমকে উঠি। এমন কোন সংখ্যা পাওয়া যায়নি যার ক্ষেত্রে এই নিয়মটি প্রযোজ্য হয় না।'
চলুন দেখি এবার কি সেই পদ্ধতি।
● যদি দেখা যায় সংখ্যাটিকে ওই পদ্ধতি একবার প্রয়োগ করার পর প্রাপ্ত যোগফল বড় সংখ্যা আসে, তাহলে তাকে আবার একই ভাবে ওই প্রক্রিয়ায় এগিয়ে যেতে হবে।
191 ~19+1×5=24
24, 7 দ্বারা বিভাজ্য নয়, সুতরাং 1567 ,7 দ্বারা বিভাজ্য নয়।







